‘তাত্ত্বিক’ বা ‘রাজনীতির রহস্য পুরুষ'- যে নামেই ডাকা হোক না কেন, সিরাজুল আলম খান দাদা ভাইয়ের রাষ্ট্রচিন্তা ও দার্শনিক তত্ত্ব আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। যেখানে সব মানুষের অধিকার বজায় থাকবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারলেই সিরাজুল আলম খানের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘সিরাজুল আলম খানের রাজনীতি ও রাষ্ট্রভাবনা' শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম রূপকার ও নিউক্লিয়াস সিরাজুল ইসলাম খান দাদা ভাইয়ের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজুল আলম খান (এসএকে) ফাউন্ডেশন ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট এ আলোচনার আয়োজন করে।
সভাপতির বক্তব্যে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লেখক-সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, সিরাজুল আলম খানের রাজনৈতিক আন্দোলন ও দর্শনই ছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি। তিনি স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনকে স্বাধীনতা যুদ্ধের পথে
আলোচনা সভায় বক্তারা
এগিয়ে দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর তিনি বিপ্লবী জাতীয় সরকার গঠনের ডাক দিয়ে রাষ্ট্রব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন চেয়েছিলেন। তিনি যে পথ দেখিয়েছেন, যে রাষ্ট্রচিন্তা ও দর্শন রেখে গেছেন, সেটি আজও প্রাসঙ্গিক। সেটিকে আজও অনুসরণ কারাতে
বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামনে সবাই নত হয়ে থাকলেও একমাত্র সিরাজুল আলম খানই তাঁর অন্যায়ের বিরোধিতা করতেন। সমাজের বৈজ্ঞানিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে তিনি জাসদ গড়ে তুলেছিলেন।
ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব ও সিরাজুল আলম খানের ভাতিজি ব্যারিস্টার ফারাহ খানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রনেতা মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিস, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ সিকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ আলী সরকার, সিরাজুল আলম খানের দুই ছোট ভাই ফখরুল আলম খান ও ফেরদৌস আলম খান পিয়ারু, অ্যাক্টিভিস্ট আবদুল মজিদ অন্তর, ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।
